in

কুমিল্লার ঘাম ঝরানো জয়

“মাধ্যম” অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি।

বিপিএল: স্পিনারদের আধিপত্যের দিনে লো-স্কোরিং ম্যাচে সিলেট সানরাইজার্সকে শেষের নাটকীয়তায় ২ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুইবারের বিপিএল চ্যাম্পিয়নদের খেলতে হয়েছে ১৯তম ওভার পর্যন্ত।

কুয়াশায় মোড়ানো মিরপুরে টস হেরে ফিল্ডিং নেয় কুমিল্লা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। শুরুতে স্পিনারদের দাপট শেষ দিকে পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, শহিদুল ইসলামদের তোপে ৯৬ রানেই আটকে যায় সিলেট সানরাইজার্স। জবাবে শুরু আর শেষে খেই হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত কষ্টার্জিত জয় কুমিল্লার।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের তাসকিন আহমেদকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু ক্যামেরন ডেলপোর্টের। তবে সোহাগ গাজীর করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরতে পারতেন ডেলপোর্ট, সহজ ক্যাচই ছেড়েছেন কেসরিক উইলিয়ামস।

ডেলপোর্ট বেঁচে গেলেও বিপিএলে নিজের অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি ফাফ ডু প্লেসিস। ৭ বলে ২ রান করে ফিরেছেন সোহাগ গাজীকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

তবে ৩ নম্বরে নামা মুমিনুল হক শুরু চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। সোহাগ গাজীকে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হাঁকান ছক্কা। পাওয়ার প্লে-তে এসেছে ১ উইকেটে ২৮ রান। গাজীর করা শেষ ওভারে চার হাঁকিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফিরতে হয়েছে ডেলপোর্টকে (১৯ বলে ১৬)।

ক্রিজে আসা অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ওই ওভারেই হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা। তবে সিলেট সানরাইজার্স অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের করা পরের ওভারেই ফেরেন এক্সট্রা কাভারে মুক্তার আলির দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে। ৪ বলে ১০ রানেই আটকে যান কায়েস।

তবে লক্ষ্য বিবেচনায় মাঝে আরিফুল হককে (৪) হারালেও ১০ ওভারে ৫৫ রান তুলে জয়ের পথেই ছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে নাজমুল ইসলা অপুর ঘূর্ণিতে নাহিদুল ইসলাম (১৬), করিম জানাত (১৮), শহিদুল ইসলামের (১) বিদায়ে ৮ উইকেটে ৮৮ রানে পরিণত হয়।

শেষ ১২ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় হাতে ২ উইকেট নিয়ে ৬ রানের। এলোমেলো বোলিংয়ে কেসরিক উইলিয়ামস ৪ বলেই খরচ করেন ৬ রান। ৭ বল ও ২ উইকেটের জয় ইমরুল কায়েসের দলের। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট নেনে সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে সিলেট সানরাইজার্স। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই অফ স্পিনার নাহিদুল ইসলাম তুলে নেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে (৯ বলে ৩)। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে পেসার শহিদুল ইসলাম ফেরান কিছুটা আশার আলো দেখানো কলিন ইনগ্রামকে। শহিদুলের শর্ট বলকে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে এজ হন, ক্যাচ দেন শর্ট মিড উইকেটে আরিফুলকে ( ২১ বলে ২০)। পাওয়ার প্লে-তে সিলেটের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৩৪।

তবে পাওয়ার প্লের পর যেন আরও নাজুক অবস্থা। ব্যর্থ হন মোহাম্মদ মিঠুনকে (৫), অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন (৩)। স্পিনে সুবিধা দেখে পার্টটাইম মুমিনুল হককে ডেকে আনেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক। নিজের দ্বিতীয় ওভারে মুমিনুল উপহার দেন উইকেটও, ফেরান রবি বোপারাকে (১৯ বলে ১৭)। ৫৮ রানেই নেই সিলেট সানরাইজার্সের ৫ উইকেট।

মুস্তাফিজের করা ১৪তম ওভারে সিলেট হয়েছে আরও দিশেহারা, টানা চার ওয়াইডে ওভার শুরু। তবে পরের ৬ বৈধ ডেলিভারিতে ১ রান, সিলেট উইকেট হারায় ২ টি। অলক কপালি (১৪ বলে ৬) রান আউট হলেও খালি হাতে ফেরা মুক্তার আলি বোল্ড হয়েছেন ভেতরে ঢোকা বলই বুঝতে না পেরে।

এরপর সোহাগ গাজী ও কেসরিক উইলিয়ামস ২২ রানের জুটিতে ৯৬ রান পর্যন্ত যেতে পারে সিলেট সানরাইজার্স। কেসরিক উইলিয়ামস ৯ ও সোহাগ গাজী ১২ রান করেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষে সমান ২ টি করে উইকেট নেন নাহিদুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর সিলেট সানরাইজার্স ৯৬/১০ (১৯.১), বিজয় ৩, ইনগ্রাম ২০, মিঠুন ৫, বোপারা ১৭, মোসাদ্দেক ৩, কাপালি ৬, গাজী ১২, মুক্তার ০, কেসরিক ৯, তাসকিন ২, অপু ০*; নাহিদুল ৪-০-২০-২, মুস্তাফিজ ৪-০-১৫-২, তানভীর ৪-১-১০-১, শহিদুল ৩.১-০-১৫-২, মুমিনুল ২-০-১৪-১, জানাত ১-০-৭-১

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৯৭/৮ (১৮.৪), ডেলপোর্ট ১৬, ফাফ ২, মুমিনুল ১৫, ইমরুল ১০, নাহিদুল ১৬, আরিফুল ৪, জানাত ১৮, অঙ্কন ৯*, শহিদুল ১, তানভীর ৩*; তাসকিন ৪-০-১৯-১, গাজী ৪-০-৩০-২, মোসাদ্দেক ৪-০-১০-২, অপু ৪-০-১৭-৩

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

কুমিল্লার সামনে সিলেটের অসহায় আত্মসমর্পন

ঢাকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম