in

খুলনার ঝড়ে উড়ে গেল ঢাকা

“মাধ্যম” অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি।
বিপিএল: বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অষ্টম আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্স। আগে ব্যাট করা মিনিস্টার ঢাকা নিজেদের ২০ ওভারে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল। জবাবে আন্দ্রে ফ্লেচার ২৩ বলে ৪৫, রনি তালুকদার ৪২ বলে ৬১ ও থিসারা পেরেরা ১৮ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললে এক ওভার আগেই ম্যাচ জিতে যায় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন খুলনা।

শুক্রবার বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে খুব বেশি রান দেখা যায়নি। চট্টগ্রাম-বরিশালের ম্যাচটি ছিল লো স্কোরিং। দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হয় ঢাকা-খুলনা। ফ্লাডলাইটের আলোর নিচে এ ম্যাচে দেখা গেল রান বন্যা। যেখানে আগে ব্যাট করে তামিম ইকবালের ফিফটিতে স্কোরবোর্ডে ১৮৩ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ঢাকা। তবুও সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক শিবির। ৬ বল এবং ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের হাসি টাইগারদের।

মিরপুরে ১৮৪ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি খুলনার। শেষবেলায় দল পাওয়া তানজিদ তামিম নিজের জাত চেনাতে পারেননি, ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শুভাগত হোমের লেন্থ বল পড়তে না পেরে বোল্ড হন ব্যক্তিগত ২ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে ঝড় তোলেন আন্দ্রে ফ্লেচার, সমান তালে তাল মিলিয়ে ঢাকার বোলারদের দুঃস্বপ্ন বনে যান রনি। তৃতীয় ও চতুর্থ ওভারে দুজন তোলেন ১৯ রান।

ইনিংসের পঞ্চম ওভার করতে এসে রুবেল হোসেন যেন লাইনই খুঁজে পেলেন না ফ্লেচারের সামনে। সে ওভারে ৪টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মিলিয়ে ২২ রান তুলে নেন এই ক্যারিবীয়। ফ্লেচার ছুটছিলেন ফিফটির দিকে, তবে ইনিংসের অষ্টম ওভারে লেগবিফোরের ফাঁদে পড়েন তিনি। থামেন ৪৫ রানে। মাত্র ২৩ বলের ইনিংসটি সাজান ৭টি চার ও একটি ছয়ের মারে। এতে দ্বিতীয় উইকেটে ভাঙে ৭২ রানের পার্টনারশিপ।

ফ্লেচার ঝড় থামার পর অবশ্য মুশফিকুর রহিমও দ্রুত বিদায় নেন। এবাদত হোসেনের এক্সটা বাউন্স আর গতির কাছে কুপোকাত মুশফিক। বাধ্য হন ক্যাচ তুলে দিতে। মুশফিক ৬ রান করে আউট হলে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন রনি। মাত্র ৩১ বলে আসে তার এক অর্ধশতক। যদিও রনি জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে আসতে পারেননি। ৪২ বলে ৬১ রান করে আউট হন এবাদতের বলে। যেখানে ৭টি চারের সঙ্গে ছয় মারেন একটি।

পরে ইয়াসির আলি রাব্বি ও থিসারা পেরেরার পার্টনারশিপে জয়ের দিকে ছুঁটছিল খুলনা। তবে তাদের জয়ের পথে খানিক ধাক্কা লাগে রাব্বি ১৩ রান করে আউট হলে। তবে বিপদ স্থায়ী হতে দেননি পেরেরা। শেষ ৩ ওভারে ২৪ রান প্রয়োজন হলে শেখ মেহেদী হাসানকে নিয়ে বাকি অনুষ্ঠানিকতা সারেন এই লঙ্কান। এতে ৫ উইকেট হারিয়েই জয় পায় খুলনা। যেখানে পেরেরা ১৮ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। মেহেদীর ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। ঢাকার হয়ে রাসেল ও এবাদত দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ঢাকা। তাদের দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও তামিম ইকবাল দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। ৮ ওভারে উদ্বোধনী জুটিতেই দুজনে তুলেন ৬৯ রান। একপ্রান্তে ধরে খেলেন তামিম, দলের রান বাড়ানোর কাজ করেন শাহজাদ। তবে ইনিংসের নবম ওভারের প্রথম বলে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় শাহজাদকে। আউট হওয়ার আগে ২৭ বলে ৪২ রান করেন তিনি, হাঁকান ৮টি চার।

তার বিদায়ের পর তামিম রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তুলে নেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৪১তম অর্ধশতক। ৪১ বলে ফিফটি করার পর ইনিংসটাকে আর টানতে পারেননি। কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে আউট হন সমান ৫০ রান করে। ৪২ বলের ইনিংসটি সাজান ৭টি চারের মারে। এরপর ঢাকার রানের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে যায়। নাঈম শেখ ১১ বলে ৯ ও অদ্ভুতভাব রানআউট হওয়া আন্দ্রে রাসেল ৩ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

জহুরুল হক ১২ রান করে আউট হলে শেষদিকে খুলনার বোলারদের ওপর চড়াও হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ঢাকার অধিনায়ক শেষ ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে মোকাবেলা করেন ২০ বল, তাতে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ রান করেন। সঙ্গে শুভাগত হোমের ৪ বলে ৯ ও ইসুরু উদানার ২ বলে ৬ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারানো ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৩ রান। খুলনার পক্ষে কামরুল ইসলাম রাব্বি শিকার করেছেন ৩ উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

অদ্ভুতুড়ে রান আউট প্রথম দেখলো বিশ্ব!

কুমিল্লার সামনে সিলেটের অসহায় আত্মসমর্পন