in ,

চৈত্রমাসে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি ফসল পানিতে নিমর্জিত

♦প্রতিনিধি লালমনিরহাট: তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে নদীর উপকূলে বন্যা দেখা দিয়েছে। হঠাৎ পানি বেড়ে উঠতি বোরধান, কাউন, বেগুন, তরমুজ, শসা ও পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক লাখ হেক্টর উঠতি পেঁয়াজ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় প্রাপ্তি কৃষকের কয়েক লাখ টাকার পেঁয়াজ ও সব্জি জাতীয় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প হতে বন্যার পূর্বাভাস না দেয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কয়েক বছর ধরে রমজান মাসে পেঁয়াজ ও সব্জি জাতীয় ফসলের দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। রমজান মাসকে সামনে রেখে এ বছর তিস্তা চরের কৃষক ব্যাপক হারে নদীর উপকূলবর্তী পলিযুক্ত বালু মাটিতে পেঁয়াজ ও সব্জি জাতীয় ফসল চাষ করে ছিল। বেসরকারি একটি এনজিও’র সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর উপকূলে প্রায় এক শত হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতীয় পেঁয়াজ চাষ হয়ে ছিল। এ সপ্তাহে তিস্তা চরের পেঁয়াজ কৃষক খেত হতে তুলে মাচাং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে থাকে।

সারা বছর নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পেঁয়াজ বিক্রি করে বাড়তি আয় করে থাকে। তিস্তা চরে কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে ব্যাপক হারে আলু তুলে উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ চাষ করে ছিল। উৎপাদন হয়ে ছিল বাম্পার। হঠাৎ তিস্তা নদীর উজানের পানি ছেড়ে দেয়ায় পেঁয়াজ খেত গুলো তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে কৃষক পরিবারের নারী পুরুষ সকলে মিলে পানির নিচ হতে পেঁয়াজ তুলছে। চরে পেঁয়াজ শুকাতে দিয়েছে। কৃষক আব্দুর রহিম (৫৫) জানান, পেঁয়াজ পানি হতে তুলে কেটে কুটে শুকাতে দিয়েছি। কৃষক পরিবার গুলো শান্তিনা পেতে এই কাজ করছে। পানি পাওয়া পেঁয়াজ ২/৩ দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়।

মহিষখোচা গোবর্দ্ধন গ্রামের তিস্তার চরের কৃষক মোঃ রমজান আলী(৪৫) জানান, স্থানীয় একটি বেসকারি সংস্থা হতে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে ছিল। দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়ে ছিল ১৬ হাজার টাকা। অবশিষ্ট অর্থ পরিবারের অন্য কাজে ব্যয় করেছে। দুই বিঘা জমিতে তার কমপক্ষে ৫০/৬০ মন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে ছিল। কমপক্ষে ৮শত টাকা মন দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে ৪০/৪৫ হাজার টাকা পেঁয়াজ বিক্রি করা যেত। এবারে সে আশায় গুড়ে বালি হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান জানান, সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ ছিল ৫ হাজার কিউসেক। গতকাল ২৪ ঘন্টায় হঠাৎ করে তিস্তা নদীতে ১৯ হাজার ৬ শত কিউসেক পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ১৫ হাজারের একটু বেশি পানি প্রবাহ হচ্ছে। দুপুরের পর হতে তিস্তায় পানি প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। যৌথ নদী কমিশনের চুক্তি বর্তমানে কার্যকর নেই। তাই ভারতের গজলডোবা হতে যৌথ নদী কমিশন কোন আগাম বন্যার পূর্বাভাস দেয় না। শুধু মাত্র ১৫ মে মাস হতে ১৫ অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি প্রবাহের পূর্বাভাস ভারত সরকার দিয়ে থাকে।

নদী ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করেন এমন একজন অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে সেচ্ছাসেবক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছি। এতে করে এই মুহুর্তে একটি সিদ্ধান্তে আসতে হবে যে, তিস্তা নদীর চর গুলোর কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে কাজ করতে হলে একটা বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে। সেটা হচ্ছে তিস্তা নদীর পানির দৈনিক প্রবাহের ও বন্যাপূর্বাভাস রিপোর্ট ব্যাপক হারে প্রচার করতে হবে। ভারত হতে তিস্তা নদীর বন্যার পূর্বাভাস না দেওয়ায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ – ভারত সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। পানি চুক্তির আগে অত্যন্ত দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন চুক্তির মাধ্যমে ভারতের গজলডোবা বাধ হতে বন্যা পূর্বাভাস নিয়মিত বাংলাদেশকে জানানোর চুক্তিটি হওয়া খুব প্রযোজন। এতে করে তিস্তা কূলবর্তী দুই দেশের কৃষক উপকৃত হবে। বন্যাপূর্বাভাস চুক্তিটি থাকলে কয়েক কয়েক হাজার হেক্টর পেঁয়াজ ফসলের ক্ষতি হতো না। আগাম বন্যাপূর্বাভাস জানা থাকলে চাষীগণ পেঁয়াজ তুলতে পারত।

রংপুর বিভাগে কৃষিতে তিস্তা চরাঞ্চলের পৃথক আর্থিক অবদান রয়েছে। চরের কৃষি বিচিত্রময়। বাস্তবতা ভিন্ন রংপুর অঞ্চলের কৃষি বিভাগের কাছে তিস্তা, ধরলাসহ অন্যান্য নদীর চরাঞ্চলের কৃষি নিয়ে পৃথক কোন পরিকল্পনা বা কার্যক্রম নেই। চরের কৃষক সরকারি কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তা বা মাঠ পর্যায়ে কর্মকতার দেখা পায় না। কৃষি বিভাগের কাছেও কোন আদাল ভাবে চরের কোন কৃষি বিষয়ে তথ্য নেই।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সামীম আশরাফ বলেন, কৃষি বিভাগ চরাঞ্চল নিয়ে পৃথক কোন তথ্য ভান্ডার করেনি। জেলার সার্বিক কৃষিতে চরাঞ্চল অর্ন্তভূক্ত। চরের কৃষি বাঁচাতে হলে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত তিস্তা নদীর বন্যাপূর্বাভাস সম্পর্কে আগাম তথ্য দেয়ার ব্যবস্থ করতে হবে। তবেই তিস্তা নদীর কৃষি ও জীববৈচিত্রতা রক্ষা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

অনাস্থা ভোটের মুখে ইমরান, বসছে অধিবেশন

ট্রাক উল্টে খালে, নিহত ৩