in ,

ফ্যামিলি কার্ডে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু

???????????

মাধ্যম ডেস্ক: নিত্যপণ্যের বাজারে ‘আগুন’ সাধারণ ভোক্তারা ক্ষুব্ধ, হতাশ। করোনার ধাক্কা শেষ না হতেই নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন। এমন অবস্থায় ভরসার নাম হয়ে ওঠে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-র গাড়ি। ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় টিসিবির প্রতি ভরসা আরো বেড়ে যায়। দিন এগোনের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হতে থাকে টিসিবির লাইন। দুই কেজি সয়াবিন তেল ক্রয়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভোজ্যতেল সংগ্রহ করে জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সর্বদায় প্রস্তুত ছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু রমজানের আগে বাজারে অস্থিতিশীল দ্বিগুণ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ফ্যামিলি কার্ডে দেশের এক কোটি পরিবারকে দুই কিস্তির মাধ্যমে টিসিবির ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা দেয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

প্রথম কিস্তি আজ রোববার থেকে ৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় কিস্তি ৩ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল। প্রথম পর্বে এককোটি উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে একসঙ্গে পাঁচ পণ্যের প্যাকেট পাবেন কার্ডধারীরা। প্রতি প্যাকেটে থাকবে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি ছোলা, দুই কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ কেজি পেঁয়াজ। সেখানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫, মসুর ডাল ৬৫, পেঁয়াজ ৩০ টাকা। ছোলার দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় রমজানকে সামনে রেখে আজ রোববার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি। আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির আজ রোববার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। এবং বিকেল চারটায় রাজধানীর কারওরানবাজারে অবস্থিত রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সরকারের এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। সব ধরনের পণ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকার ১২ লাখ ও বরিশাল সিটির ৯০ হাজার বাদ দিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে ৮৭ লাখ ১০ হাজার পরিবারকে, যারা এই সহায়তা পাচ্ছে। তবে ঢাকা ও বরিশাল সিটিতে বসবাসকারী নিম্নআয়ের নাগরিকরাও টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ পাচ্ছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী এক কোটি পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা বাবদ আড়াই হাজার টাকা করে পেয়েছেন দেশের মোট ৩৮ লাখ ৫০ হাজার সুবিধাভোগী পরিবার। এই সাড়ে ৩৮ লাখ পরিবারের সবাই পাচ্ছেন টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এর সঙ্গে নতুন যুক্ত করা হয়েছে আরো ৬১ লাখ ৫০ হাজার পরিবার। এ কাজে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। সুবিধাভোগী পরিবার নির্বাচিত করতে সরকারের সামাজিক বলয়ের আওতায় থাকা নিম্নআয়ের মানুষের তালিকার বাইরেও নানা বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে দেশের ৫ কোটি স্বল্প আয়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সরকার মনে করে।

সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা সুগার রিফাইন্ড লিমিটেড ও সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে মোট ১৪ হাজার টন চিনি কিনবে টিসিবি। ৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা করে এ পণ্যের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এছাড়াও সেনা কল্যাণ সংস্থা থেকে ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় ২ হাজার টন ছোলা ও ব্লু-স্কাই এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় ৪ হাজার এবং রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে ৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় ৪ হাজার টন ছোলা কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে ২১১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মোট ১৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনছে সরকার। এর মধ্যে শবনম ভেজিটেবল ওয়েল লি., ইজি সার্ভিস লি., পর্ব ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রয় ট্রেডার্স, প্ল্যান্টাজিক ইনকর্পোরেশন, বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে এ পণ্য কিনবে টিসিবি। সেনা এডিবল অয়েল, সুপার অয়েল রিফাইন্ড, মেঘনা এডিবল অয়েলস রিফাইনারি, সিটি এডিবল অয়েল, বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস ও সান শাইং এডিবল অয়েল লিমিটেডের কাছ থেকে ২৮৭ কোটি ৫৪ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৬ টাকায় ১ কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫২ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গত শুক্রবার টিসিবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, প্রকৃত প্রাপক যেন টিসিবির এসব পণ্য পান, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ আছে। তাই পবিত্র রমজান মাসে পণ্যের কোনো সংকট হবে না।

এর আগে টিসিবির মাধ্যমে সরকারের এই কার্যক্রম সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, সারাদেশে স্বল্প আয়ের ১ কোটি পরিবারকে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সারাদেশে টিসিবির মাধ্যমে জনগণকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। টিসিবির এ কার্যক্রমের আওতায় চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

সারাদেশে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু রবিবার

দিনাজপুরে ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত

দিনাজপুরে ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ২