in ,

বিএনপির কাছে মানবাধিকারের কথা শোনা দুর্ভাগ্যজনক : প্রধানমন্ত্রী

♦ডেস্ক, মাধ্যম: জিয়াউর রহমানের দল বিএনপির কাছে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার শেখার কিছু নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের কাছে এসব শোনা দুর্ভাগ্যজনক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়া সেনাপ্রধান হয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিল। কখন? যখন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হলো এবং অবৈধভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়া হলো। আজ তাদের মুখে আমাদের গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। ভোটের কথা শুনতে হয়। মানবাধিকারী কথা শুনতে হয়। অথচ এদের হাতে বারবার…আমার উপরে তো কত আঘাত এসেছে।

তিনি বলেন, আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে বোধহয় এ দিনটি দেখার জন্য। যে নামগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল ইতিহাস থেকে; আমার বাবার নাম। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল, যেখানে তার নামটাও নেয়া যেত না। এমন একটা পরিবেশ ছিল। বিচারহীনতার যে কালচার শুরু হয়েছিল আজকে জাতি তা থেকে মুক্ত হয়েছে।

সেনাশাসক জয়িাউর রহমানের দল বিএনপির কাছ থেকে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের ধারণা শেখার কছিু নেই। তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র, ভোট ও মানবাধিকারের কথা শোনা র্দুভাগ্যজনক।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২২’ উদ্বোধন ও ‘শেখ রাসেল পদক-২০২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান হয়। সেখানে গণভবন থেকে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, যেমন জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ, খালেদা জিয়া—প্রত্যেকেই খুনিদের মদদ দিয়েছে। পুরস্কৃত করেছে। এমনকি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন—সে খুনি পাশা এবং হুদাকে নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি নামের রাজনৈতিক দল করেছিল। অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে তাদেরকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। জেনারেল এরশাদ খুনি ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছিলেন। খালেদা জিয়া খুনি রশিদ এবং হুদাকে (দিয়ে) জনগণের ভোট চুরি করে। আজকে তারা ভোটের কথা বলে। ১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ভোটারবিহীন নির্বাচনে তাদেরকে নির্বাচিত করে সংসদে বসিয়েছে। তাদের মুখেই ভোটের কথা শুনতে হয়।

৫০০০ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, ৩০০ শেখ রাসেল স্কুল অব ফিউচার উদ্বোধন

একই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত পাঁচ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ও ৩০০ শেখ রাসেল স্কুল অব ফিউচার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া শেখ রাসেল পদক ২০২২ প্রদান এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

অনুষ্ঠানে ‘দুরন্ত প্রাণবন্ত শেখ রাসেল’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ শীর্ষক ত্রিমাত্রিক অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ট্রেইলার প্রদর্শন করা হয়।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া বাবা-মা-ভাইদের হত্যার বিচার চাইতে না পারার বেদনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কেউ বিচার চাইতে পারব না। এখানে আমার একটা প্রশ্ন—আজকে আন্তর্জাতিকভাবে কত কিছু হয়। মানবাধিকারের কথা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ—কত কিছু হয়। কই, তখন কেউ তো আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

‘হ্যাঁ, আমার দল এবং বাংলার জনগণ ছিল। কিন্তু যারা ঘাতকদের সাথে ছিল, ঘাতকদের সহযোগিতা করেছিল বা চক্রান্তের সাথে ছিল বা ঘাতকদের পুরস্কৃত করেছে, বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া, প্রমোশন দেওয়া, এমনকি যে ঘাতক মারা গেছে তাকেও প্রমোশন দিয়ে পুরস্কৃত করা—এই অন্যায়-অবিচারগুলো তো নিজে চোখে দেখেছি। আজ মানবতার কথা, মানবাধিকারের কথা, এত কথা, গাল ভরা (কথা) শুনি কেন? আমার এই প্রশ্নের জবাব কি কেউ দিতে পারবে?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে এইসব লোক যারা হত্যাকারী, হত্যাকারীদের মদদদাতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী যারা, যেসকল বিচারক সেদিন বিব্রত হয়েছিলেন, তারা এখন অনেকেই বড় বড় দার্শনিক হয়ে গেছেন। আমি তো সবই দেখি। কিছু বলি না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই যে শিশু হত্যা, নারী হত্যা, রাষ্ট্রপতিকে হত্যা, এই হত্যার বিচার না করার একটা আইন করে রাখা হয় যে, কেউ খুনিদের বিচার করতে পারবে না। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। অর্থাৎ আমি আমার মা-বাবা-ভাই যাদের হারিয়েছি, আমি বিচার চাইতে পারব না, মামলা করতে পারব না। আমি আর রেহেনা বিদেশে ছিলাম। আমাদেরকে দেশেও আসতে দেয়নি। ছয়টা বছর রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘৮১ সালে ফিরে এসে আমি যখন মামলা করতে যাই বা তার আগেও চেষ্টা করেছি, কিন্তু মামলা করা যাবে না। কারণ আইনে বাধা। আমার প্রশ্ন, আজকে তো অনেক মানবাধিকারের কথা বলা হয়। কেউ মারা গেলে বিচার চাওয়া হয়। আমরা কী অপরাধ করেছিলাম যারা ১৫ই আগস্ট আমাদের আপনজন হারিয়েছি? কেউ বাবা-মা হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে, ভাই হারিয়েছে, বোন হারিয়েছে। আমাদের অপরাধটা কোথায় ছিল?’

নানা বাধা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে পারার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার করতে পেরেছি তখনই, ২১ বছর পর অনেক ঘাতপ্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই পার হয়ে যখন আমি সরকার গঠন করলাম। যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছি তখনই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে তারপর বিচার করতে পেরেছি। বাতিল করার পথেও তো অনেক বাধা। আমরা জানি, আমরা শুনি বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। ঠিক সেটাই হয়েছিল আমাদের ব্যাপারে। অর্ডিন্যান্স বাতিল করতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। বিচারকাজ শুরু করলাম। তখনও দেখেছি কত—এই হাইকোর্টের বড় বড় জজ সাহেবরা অনেকে মামলা করতে চাননি, বিব্রতবোধ করেছেন। এই বিব্রত বোধ হওয়াটাও তো আমার চোখে দেখা। এই মামলার রায় (যিনি) দিয়েছেন—প্রথম তাকেও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কিছু বলি না। কারণ আমার একটাই লক্ষ্য। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটা সুন্দর জীবন পায়, নিরাপদ জীবন পায়, উন্নত জীবন পায়। আর বাংলাদেশ যে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি, সেই বাংলাদেশ যেন বিশ্বসভায় একটা মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে। এটাই ছিল আমার লক্ষ্য। সে লক্ষ্য অর্জন করার জন্য স্বজনহারা বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর আমরা স্বজনহারা বেদনার কান্না শুনতে চাই না। পিতাহারার সন্তানের কান্না শুনতে চাই না। সন্তানহারা পিতার কান্না শুনতে চাই না। আজকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ। কত শিশু এতিম হয়ে যাচ্ছে, কত শিশু আজকে কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের দেশে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি সেখানেও হাজার হাজার শিশুরা তারাও নিজের স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে আজকে রিফিউজি হিসেবে মানুষ হচ্ছে। একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব আমরা চাই, যুদ্ধ চাইনা, ধ্বংস চাইনা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চাই না, শান্তি চাই আমরা, শান্তি চাই। কোন শিশু রিফিউজি হোক চাই না, বুলেটের আঘাতে কোন শিশুর জীবন প্রদীপ নিভে যাক, ছোট্ট দেহ ক্ষতবিক্ষত হোক সেটা আমরা চাই না। বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক।’ তিনি বলেন, ‘আমার দেশের মানুষ তারা ভালো থাকুক আমার দেশের ছেলে মেয়েরা ছোট্ট শিশুরা সুন্দর জীবন পাক সেটাই আমার লক্ষ্য। … আমরা যুদ্ধ চাইনা সংঘাত চাই না। রাসেলের মত আর কেউ জীবন দিক সেটাও আমি চাইনা। আমরা চাই প্রত্যেকের ভবিষ্যৎ সুন্দর হোক উন্নত হোক।’

১৯৭৫ সালে শেখ রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে না যাওয়ার আক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিদেশ যাওয়ার সময় রাসেলকেও সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার বাবা-মা দেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তখন সে অসুস্থ ছিল। তা ছাড়া কেন যেন মা, আব্বা রাজি ছিলেন না। সবাই চলে গেলে বাসা খালি হয়ে যাবে। এখন মনে হয়, তাকে যদি সঙ্গে করে নিয়ে যেতাম, তাহলে রাসেলকে এইভাবে ঘাতকের হাতে জীবনটা দিতে হতো না। আজকে তার বয়স হতো ৫৯ বছর। হয়তো সে জীবনে অনেক বড় হতে পারত। তার জীবনের একটা স্বপ্ন ছিল। ছোটবেলা থেকে বলত, সেনা অফিসার হবে। বেঁচে থাকলে হয়তো আমরা দেখতাম, কিন্তু তাকে বাঁচতে দেয়া হয়নি।’

ছোট ভাই শেখ রাসেলকে নিয়ে বলতে গিয়ে বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা ছোট্ট শিশু, একটা ফুল না ফুটতেই ঝরে গেল। ঝরে গেল চরম নির্মমতার মধ্য দিয়ে, ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে।’ রাসেলের শৈশবের দুরন্তপনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়ায় গেলে ছোট ছোট বাচ্চাদের সে সংগ্রহ করত। তাদের সে প্যারেড করাত। প্যারেডের পর প্রত্যেককে খাবার দিতে হবে, প্রত্যেককে নতুন কাপড়চোপড় দিতে হবে। প্যারেড শেষে সবাইকে আবার পুরস্কার দিত এক টাকা করে। তার এই শিশুবাহিনীর জন্য আমার মা সব সময় কাপড়চোপড় কিনে নিয়ে যেতেন। আমার চাচা তখন ব্যাংক থেকে নতুন এক টাকার নোট হাতে রাখতেন।’

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর জাতির পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবারের সবাইকে ধানমন্ডির ১৮ নম্বরের একতলা একটি বাড়িতে বন্দি করার পরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সেখানে কোনো আসবাবপত্র ছিল না। পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে আমাদের একটি কম্বল দেওয়া হয়েছিল বসার জন্য। ধুলোবালি ভরা সেই বাড়িতে—সেখানে আমাদের স্থান হয়। ছোট্ট রাসেল, ওই বন্দিখানায় তার খেলাধুলার কিছু নেই, পড়াশোনার কিছু নেই, এমনকি ওই এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছিল। ওই অবস্থায় তার ভেতরে যে অব্যক্ত বেদনাটা, মুখ ফুটে কিন্তু বলত না, চোখে পানি। যদি জিজ্ঞেস করতাম, কী হলো, চোখে পানি কেন? বলত, না, চোখে কী যেন পড়েছে। কেমন যেন ওই বাচ্চাটাও তার কষ্টটা লুকানোর একটা চেষ্টা করত।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রবর্তিত ‘শেখ রাসেল পদক ২০২২’ দেওয়া হয় অনুষ্ঠান থেকে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোর, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি, খুদে প্রোগ্রামার, খুদে উদ্ভাবক, খুদে লেখক, শিক্ষা, ডিজিটাল স্কুল, এবং ডিজিটাল এক্সিলেন্স পদক ১০ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

শেষ চার বলে ৪ উইকেট, ভারতের নাটকীয় জয়!

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ