in ,

শ্রেণিকক্ষে ঢালাই ও পলেস্তারা ধ্বসে পড়ছে ঝুঁকিতে পাঠদান

 প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম: মাথার ওপর পলেস্তারা আর ঢালাই খন্ড ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা। স্যাঁত স্যাঁতে আর জরাজীর্ণ ভবনে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রচন্ড গরম কিংবা মেঘলা আকাশে নেই ফ্যান-লাইট চালানোর সুবিধা। না এটা কোনও আবাসিক ভবনের চিত্র নয়। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।

১৯৩৪ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত হয় ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এরপর বিদালয়টি নানা প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে তার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখে । বিদ্যালয়টিকে সরকারিভাবে জাতীয়করণ করা হয় ২০১৮ সালে । বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এ স্কুলেটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আটশত । জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রও এটি। ঐত্যিবাহী এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শ্রেনিকক্ষে পাঠদান ঝুঁকিপূর্ন জেনেও ক্লাস করছেন নিয়মিত ।

শনিবার সকালে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির পাকা ভবনের পলেস্তারা ও ছাদের ঢালাই খসে খসে পড়ছে। ঢালাই খসে গিয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি চুয়ে পড়ছে। ভবনে নেই কোনও বৈদ্যুতিক সংযোগ। একই অবস্থা সেমি পাকা ভবনের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় ও শিক্ষকদের অফিস রুম। সেখানে টিনের চাল ফুটো, স্থানে স্থানে মটকা নেই। চালের আড়া ভেঙে গেছে। স্যাঁত স্যাঁতে দেওয়ালে নেই পলেস্তারা।

গত দুই বছর ধরে দূর্ঘটনার শঙ্কা আর নানা ভোগান্তি নিয়ে এভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা । নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও । ফলে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

৬ষ্ঠ শ্রেনির শিক্ষার্থী মনি জুই,ও মনিকা বলেন, আমাদের ক্লাসরুমের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ আমরা ভয়ে ভয়ে সব সময় ক্লাস করি, মাঝে মাঝে প্লাস্টারে গুঁড়া এসে আমাদের গায়ে মাথায় পড়ে। এটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন ভবন নির্মাণ করলে আমাদের লেখাপড়া জন্য খুবই ভালো হবে।

সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন,ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করাতে গিয়ে আমাদেরকে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়, এছাড়া শিক্ষকদের বসার রুমটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা মাঝে মাঝে বাহিরে গিয়ে বসি।

প্রধান শিক্ষক জাবেদ আলী খন্দকার বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষের সংকট, শিক্ষকগণের বসার জায়গা সংকট, প্রধান শিক্ষকের রুমের সংকট ১৯৩৪ সালে নির্মিত ভবনগুলো পুরাতন জরাজীর্ণ এই ঝুঁকিপূর্ণ, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে আমরা পাঠদান চালাচ্ছি কতৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব এখানে নতুন ভবন তৈরি করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য।

উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনগুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছেন, এতে শিক্ষার্থীরা সবসময় আতঙ্কিত থাকেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আমি বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস বলেন,বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য একটি আবেদন আমরা পেয়েছি , আবেদনটি সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে প্রেরণ করেছি। তাদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর বিষয়টির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় পরিদর্শন করেছেন।

কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী বলেন, স্কুলটির নতুন ভবন নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। স্কুলটির নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

বিশ্বকাপ ২০২২: বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সূচি

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ