in ,

সেলফি বিক্রি করে কোটিপতি

পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যে জীবনে শখ বা হবি নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হননি। প্রত্যেকটা মানুষেরই কোনো না কোনো শখ রয়েছে। কারো শখ ঘুরতে যাওয়া, কারো বই পড়া, কারো গান শোনা, আবার অনেকে সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। আবার অনেকের পছন্দ সংগ্রহশালা; এ ধরনের মানুষজন বিশ্বের দুর্লভ বস্তুসমূহ, যেমন- ঐতিহাসিক জিনিসপত্র, তারকাদের ব্যবহূত জিনিস সংগ্রহ করে থাকেন। কেউ তা নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখেন, আবার কেউ তা পরবর্তীতে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। তাই বলে নিজের সেলফি বিক্রি করে কোনো সাধারণ মানুষ কোটিপতি বনে যাবেন; ব্যাপারটি বিস্ময়কর বটে! বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের কল্যাণে কারো সাহায্য ছাড়াই মানুষজন নিজের ছবি নিজে তুলতে পারেন। যাকে বলা হয় সেলফি। একটু কঠিন ভাষায় বলতে গেলে, নিজস্বী বা সেলফি হলো আত্ম-প্রতিকৃতি আলোকচিত্র বা দল আলোকচিত্র। যা সাধারণত হাতে ধরা ডিজিটাল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ফোন ব্যবহার করে নেয়া হয়। আজকাল বেশিরভাগ লোক যে জিনিসটি পছন্দ করেন, তা হলো সেলফি তোলা। যখন থেকে স্মার্টফোনের যুগ এসেছে, মানুষ সেলফি প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।

কোথাও বেড়াতে গেলেন কিংবা কোনো পোশাক পরেছেন- একটি সেলফি তুলে দেখে নিলেন নিজেকে কেমন লাগছে দেখতে। আবার কোনো নতুন খাবার চেখে দেখার আগে সেটির সঙ্গে সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন। বেশিমাত্রায় সেলফি তোলার প্রবণতা অনেককে বিপদেও ঠেলে দিয়েছে। তবে এর জন্য কেউ কোটিপতি হতে পারেন তা কখনো ভেবে দেখেছেন? হ্যাঁ, এমনই ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার জাভার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি তরুণ সুলতান গুস্তাফ আল ঘোজালির সঙ্গে। নিজের সেলফি বিক্রি করে মাত্র পাঁচ দিনে কোটিপতি বনে গেছেন এই তরুণ।

ডেইলি মেইল- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোজালি গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন একটি করে সেলফি তুলেছেন। ভিডিও করার আগে নিজেকে দেখার জন্যই মূলত তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সেলফি তুলতেন। এই শখই তাকে একদিন কোটিপতি বানিয়ে দেবে তা তিনি নিজেও জানতেন না। পাঁচ বছর পর এখন তার সেলফিগুলো লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূলত সেলফিগুলোকে নন ফাঞ্জিবল টোকেন এ (এনএফটি) রূপান্তরিত করার পর সেগুলো বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেছেন তিনি। এনএফটি একটি অনলাইন মুদ্রা। ঘোজালি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তার কম্পিউটারের সামনে বসে প্রতিদিন তার ছবি তুলতেন। ঘোজালি তার সেলফি বিক্রি করতে শুরু করেন এ বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ১৪ জানুয়ারি সেলফি বিক্রি করে কোটিপতি হয়ে যান তিনি। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেলিব্রেটিরা ঘোজালির সেলফি বিক্রিতে অনেক সাহায্য করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার অনেক সেলিব্রেটি তার ছবি প্রচার করেছেন। ঘোজালির এক হাজারের মতো ছবি বিক্রির জন্য পোস্ট করেন। প্রতিটির মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন মাত্র ০.০০০০১ ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথার (তিন ডলার)। তবে হঠাৎ করেই তার ছবি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপরই তার ছবির দাম হু হু করে বেড়ে যায়। ঘোজালি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, তার ছবি মানুষ এত দাম দিয়ে কিনছে।

তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন, কোনো সংগ্রাহক তার সেলফি সংগ্রহ করলে সেটা মজার একটা জিনিস হবে। তারপরও তিনি কখনোই ভাবতেই পারেননি কেউ তার সেলফি কিনতে চাইবে। আর এ কারণেই তিনি সেগুলোর দাম মাত্র তিন ডলার রেখেছিলেন। কিন্তু পরের দিন চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর একেকটি সেলফি থেকে ০.২৪৭ ইথার (৮০৬ ডলার) দাম পাওয়া যায়। মাত্র পাঁচ দিনে চার শতাধিক মানুষ তার অভিব্যক্তিহীন ছবি কিনেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ঘোজালির সেলফি বাবদ মোট আয়ের পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে ঘোজালি এখনো তার বাবা-মাকে বলার সাহস পাননি যে, তিনি এত টাকা কীভাবে আয় করছেন। তারাও ভেবে পাচ্ছেন না ঘোজালি কোথায় পেল এত টাকা!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

দৌলতদিয়ার ফেরী ঘাটে ৬ কিলোমিটার যানজট

সয়াবিন তেলের দাম বেশি নিলে ১৬১২১-এ জানানোর পরামর্শ